এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মুনসুরুল হক স্বপন’র আত্মজীবনি

 

মুনসুরুল হক স্বপন

টাঙ্গাইল জেলার কালিহতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার রাজাবাড়ী গ্রামের সন্তান । পিতা: ডা: আ: মজিদ মাতা: খুরশিদ জাহান । নানা কাজী শামসুল হুদা সাব রেজিষ্টার থাকার কারণে কিশোরগঞ্জ উপজেলার কাটিয়াদী থানায় ১৯৬২ সালের ২৮ শে ডিসেম্বর আমার জন্ম । আমি ১ম শ্রেণী হতে ৪র্থ শ্রেণী পর্যন্ত রাজাবাড়ী স: প্র: বিদ্যালয়ে লেখা পড়া করি । তারপর আমার আব্বা নারন্দিয়া সরকারী দাতব্য চিকিৎসালয় চাকরি করেন বিধায় ১৯৭৪ সালে নারান্দিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেনীতে ভর্তি হই এবং ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করি। তারপর এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্তি হই। ৬ষ্ঠ শ্রেনী হতে ১০ম শ্রেনী পর্যন্ত আমি ফাষ্ট বয় ছাত্র ছিলাম। খুব ভাল ছাত্র না হলেও তখনকার সময় আমাকে ভাল ছাত্র হিসেবে এলাকাবাসী জানত। এসএসসি তে ১৯৮০ সালে লেটার মার্কস সহ ফাষ্ট ডিভিশনে এলেঙ্গা উচ্চবিদ্যালয় হতে পাশ করি। এসএসসি পাশ করার পর গোপালপুর কলেজ খামারবাড়ী থেকে ক্লাশ করার পর টিসি নিয়ে ইবরাহীম খা কলেজে ১৯৮০ সালে ভর্তি হই। ভর্তি হওয়ার পর ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জরিয়ে পড়ি। আমি ওই সময় বর্তমান মেয়র মাসুদুল হক মাসুদের সাথে সাংগঠনিক কাজ করি। যিনি বর্তমানে ভুয়াপুর পৌরসভার মেয়র । ১৯৮৩ সালে এইসএসসি পাস করি। ইবরাহীম খা কলেজ থেকে এবং একই কলেজ হতে ১৯৮৮ তে বিএ ডিগ্রি লাভ করি। ২০০৪ সালে বিএবি এ্যান্ড ডিগ্রি লাভ করি। তারপর ১৯৯৪ সালের ১৪ই ডিসিম্বর শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। শিক্ষকতা জীবনে আমি প্রাইভেট বা কোচিং থেকে বহু প্রস্তাব আসার পরও আমি নিজেকে জরাইনি। ১৯৯৬ এবং ১৯৯৮ সনে রাজাবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৯৯৮-২০০০ সাল পর্যন্ত দুইবার শিক্ষক প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করি। শিক্ষকতার পাশাপাশি এলেঙ্গা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাকালীন উপষ্ঠো হই এবং ২০১৭ সালেও উগদেষ্ঠা হিসেবে আছি। ২০০৮ সালে এলেঙ্গা সাহিত্য সংসদের উপদেষ্ঠার দায়িত্ব পালন করি এবং এখনও দায়িত্ব পালন করতেছি। আমি নীজ বিদ্যালয়ে একবার নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধি হই। তারপর ২০১৫-২০১৬ এবং ২০১৬-২০১৮ জন্য সিলেকসনে শিক্ষক প্রতিনিধি হই। ১৯৮১ সালে ইবরাহীম খা কলেজে একজন গুরুদেব পাই ইংরেজী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক শংকর দাশকে । তিনি আমাকে এখনও অনেক ¯েœহ করেন। এককথায় আমার নিত্যশুভার্থী। আমার আর একজন স্যার নিত্যশুভার্থী তিনি হলেন এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাবু গোপীনাথ মজুমদার। তারপর শিক্ষকতার পূর্বে আমি স্বাধীনতার ইসতেহার পাঠকের হাত ধরে জাসদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হই। শিক্ষকতার পর রাজনীতি থেকে দুরে পেশাজীবি সংগঠন মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির পশ্চিম জোনে সাহিত্য সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক হই। কলেজ জীবন থেকে টুকটাক লেখালেখি করি। প্রমিতি-১ এবং প্রমিতি-২ নামক দুটি নিবন্ধক সহযোগী সম্পাদক হিসেবে বই দুটি প্রকাশ করি। শিক্ষক বার্তাঃ পুর্বে সানক্রেস্ট বেভারেজ কোম্পানীতে প্রায় ৫ বছর মার্কেটিং অফিসার হিসেবে ঢাকা সিটিতে কাজ করি। তারপর ২০০৮ সালে আমি লুৎফর রহমান মতিন কলেজে বোর্ডের প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করি। ২০১৭-২০২১ সাল পর্যন্ত লুৎফর রহমান মতিন কলেজে ডিসি এর প্রতিনিধিত্ব করি। শামছুল কলেজে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ২০০০ টাকা প্রধানসহ শহীদ মিনার করার জন্য শারিরিক শ্রম দেই এবং এলেঙ্গা সাধারন পাঠাগারের জন্য আজীবন সদস্য হওয়ার জন্য ৩০০০ টাকা প্রধান করি। হযরত খাদিজতুল কোবরা (রাঃ) মহিলা মাদ্রাসার উপদেষ্ঠার দায়িত্ব পালন করি। সহযোগিতা করেছি এলেঙ্গার সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হৃদয় শিশু নিকেতন প্রতিষ্ঠায় ও ফরহাদ ক্যাডেট একাডেমি গড়তে । আমি ১৯৯৯ সালের ১৭ ই জুলাই ইছাপুর খান পরিবারের মেয়ে আফরোজা খান ইরার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। দাম্পত্য জীবনে এক সন্তানের জনক। আমার সনÍান সাদ ইবনে মনসুর কান্ত বর্তমানে নটরডেম কলেজে অধ্যায়নতর। চাকুরী শেষ হওয়ার পর যদি আল্লাহতালা সামর্থ দান করলে মা-বাবার নামে একটি এতিমখানা করার ইচ্ছা রয়েছে আমার ।

আপনার মতামত দিন

 
 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন

 

মতামত প্রকাশের জন্য লগইন করুন

 
 
 

ব্রেকিং নিউজ