ফের অবরুদ্ধ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ

 

মুক্তার হাসানঃ

পাঁচ দফা দাবী আদায়ে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল গেটে তালা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। রোববার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৯ টা থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনসহ সকল ভবনের ফটকে তালা দিয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রশাসনিক ভবনের সামনে টায়ারে আগুন জালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তারা। এর ফলে দ্বিতীয় দফায় অবরুদ্ধ হলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।


আন্দোলতরত মাওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসির আরাফাত বলেন, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেখানে ক্রেডিট ফি দিচ্ছে ১৮ টাকা, সেখানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিজন শিক্ষার্থী দিচ্ছে ১১০টাকা। এ ক্রেডিট ফি কমাতে হবে। পরিবহন ফি যেখানে প্রতি ছয় মাসে নেয়া হচ্ছে ৩’শ টাকা তা কমিয়ে ১’শ টাকা করতে হবে। দেশের হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফি ১২হাজার ৭’শ, পটুয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ হাজার ৭’শ , জগনাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ হাজার ও নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬ হাজার টাকা সেখানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফি নেয়া হচ্ছে ২০ হাজার টাকা। এছাড়াও পরীক্ষা ফি, ল্যাব ফি বাতিল করা। যা অনৈতিকভাবে তাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বলেও দাবী তাদের। এ সকল ফি দিতে চরম সমস্যায় পরছে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বলেও জানান তারা। এ দাবী আদায়ের জন্য শনিবার (৬ জানুয়ারি) বিকালে থেকে তারা আন্দোলনে নেমেছে। শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় তাদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডি বৈঠকে বসলেও তারা এ মুহুর্তে দাবীসমূহ মেনে না নিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে দাবগিুলো নিয়ে বিবেচনা করবেন বলে জানান। এ কারণে শিক্ষার্থীরা পুনরায় এ আন্দোলনে নেমেছে। এ দাবীসমূহ মেনে নেয়ার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত এ আন্দোলন চলমান থাকবে বলেও জানান তারা। দীর্ঘদিন যাবৎ একইভাবে এ ফি আদায় করার কারণে তারা এ আন্দোলনে নেমেছে বলেও জানান তারা।
শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবীর মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফিসহ সকল প্রকার উন্নয়ন ফি বাতিল করা, পরীক্ষার ফি বাতিল করা, ল্যাব ফি বাতিল করা, ক্রেডিট ফি কমিয়ে ৫০ টাকা করা এবং পরিবহন ফি ১০০ টাকা নির্ধারণ করা।
এ প্রসঙ্গে মাওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত তিন বছর যাবৎ একই ফি আদায়ের মাধ্যমে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ফি বৃদ্ধি করা হয়নি। তবুও আকস্মিকভাবে শনিবার দুপুর থেকে ৫ দফা দাবী নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীরা। তাৎক্ষনিকভাবে তাদের ওই দাবীসমূহ মেনে নিতে দাবী জানায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ দাবী নিয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টায় শনিবার রাত ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি নিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে বৈঠকের আয়োজন ও আগামী ফেব্রুয়ারীতে এ নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানানো হলেও তারা তাৎক্ষনিক দাবী মেনে নেয়ার শর্ত চাপিয়ে দেয়ায় আলোচনা ভেস্তে যায়। তবে এখনও সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত দিন

 
 
 
 

0 মতামত

আপনিই প্রথম এখানে মতামত দিতে পারেন.

 
 

আপনার মতামত দিন

 

মতামত প্রকাশের জন্য লগইন করুন

 
 
 

ব্রেকিং নিউজ